গত সোমবার ২৮ মার্চ ঐক্যবদ্ধভাবে বিরোধীরা ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। পাকিস্তানের প্রধান দুই বিরোধী দল তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ ও বিলাবল ভুট্টো জ়ারদারি নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি, ইমরানের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করেছিল। অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও ইমরান খানের বিরোধিতায় অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। এমনকী ইমরানের জোট শরিক এমকিউএমও এই অনাস্থা প্রস্তাবের সমর্থনে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
অনাস্থা প্রস্তাবের পিছনে কে?
গত সোমবার ২৮ মার্চ ঐক্যবদ্ধভাবে বিরোধীরা ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। পাকিস্তানের প্রধান দুই বিরোধী দল তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ ও বিলাবল ভুট্টো জ়ারদারি নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি, ইমরানের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করেছিল। অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও ইমরান খানের বিরোধিতায় অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। এমনকী ইমরানের জোট শরিক এমকিউএমও এই অনাস্থা প্রস্তাবের সমর্থনে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
কেন ইমরানে বিরুদ্ধে এত রাগ?
২০১৮ সালে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে সরকারে এসেছিল ইমরান খানের দল। তবে এককভাবে তেহরিক ই ইনসাফ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়নি। শরিক দলগুলির সাহায্য নিয়ে সরকার তৈরি করেছিলেন ইমরান। সেই সময় বিরোধী দলগুলি বিভক্ত ছিল এবং সিনিয়র বিরোধী নেতাদের ওপর দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ ছিল। ইমরান সরকারের শাসনকালে পাকিস্তানের আর্থিক অবস্থা ক্রমশই খারাপ দিকে গিয়েছে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে আর্থিক অবস্থাকে আরও খারাপ করা ও বিদেশ নীতি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ২০১৮ সালে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৪ জন অর্থমন্ত্রী নিয়োগ করেছিলেন ইমরান। আইএমএফ পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য করবে বলে জানিয়েছিল, তবে শর্ত পূরণ না হওয়ায় সেই টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। চিনের থেকে পাকিস্তানের ঋণের বোঝা অনেকে। তাই ক্রমশই ইমরানের ওপর চাপ বাড়ছিল।
পাক সেনা বাহিনীর ভূমিকা
অনেকেই মনে করেন, ইমরান খান আজ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তার নেপথ্যে পাক সেনাবাহিনীর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ ২০১৮ সালে ইমরান খান যখন ক্ষমতায় এসেছিল তখন, পাক সেনাবাহিনী তাঁকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। অনেকেই দাবি করেন আগেই ইমরান খান সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সেনার সমর্থন সেই সময় থাকার কারণে সরকার বাঁচাতে সক্ষম হন ইমরান। তবে এবার পাক সেনাবাহিনী ইমরানের ওপর খড়্গহস্ত হয়েছে। অক্টোবর মাস থেকেই ইমরান খান ঘনিষ্ঠ পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই প্রধান ফইজ হামিদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাক সেনা বাহিনীর মদতেই ওই কাজ হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ইমরান খান পাক সেনা প্রধান বাজওয়া সহ শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, কিন্তু তারা তাঁকে ইস্তফা দিতে বলেন।
সংসদে সংখ্যার বিচারে কে এগিয়ে?
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে সংখ্যার বিচারেও ইমরান খান পিছিয়ে রয়েছেন। এই মুহূর্তে ইমরানের দল তেহরিক ই পাকিস্তানের কাছে এককভাবে ১৫৫ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন রয়েছে। ৩৪২ আসনের সংসদে সরকার ধরে রাখতে ১৭২ জনকে প্রয়োজন। সেখানে বিরোধীদের হাতে ১৬৩ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে এবং ইমরানের জোটসঙ্গী এমকিউএমের ৭ সংসদ সদস্যও অনাস্থা ভোটে বিরোধীদের আনা প্রস্তাবকেই সমর্থন করবেন। তাই সংখ্যার বিচারেও পিছিয়ে রয়েছেন ইমরান খান। এখন সরকার বাঁচাতে ইমরান খান কী সিদ্ধান্ত নেন সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।